সর্বশেষ
সরকার গঠনের প্রাক্কালে সৌজন্য সাক্ষাৎ: তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান-এর বৈঠক, রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা নিরঙ্কুশ বিজয়কে গণতন্ত্রের বিজয় বলেছে বিএনপি ২৯৭ আসনের ফল: বিএনপি ২১০, জামায়াত ৬৭ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় ভোট প্রদান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় ভোট প্রদান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় ভোট প্রদান সিলেট-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের ভোট প্রদান সিলেট-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের ভোট প্রদান ১৭ বছর পর ভোট দেব, ফিলিংসই আলাদা”—ঢাকা-৯ আসনে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন

https://dailybangladeshview.news/

1043

bangladesh

প্রকাশিত

১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৩:১১

বাংলাদেশ

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট; কঠোর নিরাপত্তায় দেশ  

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৩:১১

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ (বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি)। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনেই জাতীয় সংসদ ভোটের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এ নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে মাঠে থাকবেন প্রায় নয় লাখ সদস্য। এর মধ্যে মূল দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য।

সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দায়িত্ব পালন করবেন এক লাখ তিন হাজার সেনাসদস্য। এছাড়া পাঁচ জেলার ১৭টি আসনে বিশেষ নজরদারিতে থাকবেন পাঁচ হাজার নৌবাহিনী ও তিন হাজার ৫০০ বিমানবাহিনীর সদস্য। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কারচুপি ও সহিংসতা ঠেকাতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য বডিওর্ন ক্যামেরা পরে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারিতে থাকবে ৫০০-এর বেশি ড্রোন।

দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে ভোট একদিকে উৎসবের প্রতীক হলেও; অন্যদিকে সহিংসতা, সংঘাত ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগও রয়েছে। গত ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে মাত্র চারটিতে শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। বাকি আটটিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমালোচনার মুখে পড়ে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে আমরা এত বড় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছি। এবারের নির্বাচনের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তারপরও আরও ভালো নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিচ্ছে।’

ইসি জানিয়েছে, কেবল বাহিনী মোতায়েনই নয়, যেকোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসও।

এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট আসন সংখ্যা ২৯৯টি। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন মোট ৮৩ জন— দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৫ জন— দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।

ভোটার সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দিনশেষে সম্মিলিত চেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে কমিশন অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বদ্ধ পরিকর।’

নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতায় আগামীকালের নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের মাধ্যমে ভোটের আসল বিষয়গুলো উঠে আসবে।’