১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), কিন্তু ফল ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার খবর এসেছে। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থক নিহত হওয়া একাধিক ঘটনাকে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের মধ্যে অনেকে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, ফলাফল প্রভাবিত করা ও ভোট গণনায় কারচুপিসহ বহুবিধ অভিযোগ তুলেছে, যা এখন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুতর চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার চরআব্দুল্লাহ গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে এনেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ফুটবল প্রতীকের সমর্থক জসিম উদ্দিন (৩০) ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের হামলায় নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জনের একটি দল জসিমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জসিম, তার পিতা মাফিক নায়েব এবংদুই ভাই মোখলেস ও মহসিন নায়েবকে বেধড়ক মারধর করে। এসময় জসিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবি পরিবারের। একই ঘটনায় তার স্বজনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার মাফিক নায়েবের বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।উল্লেখ্য, এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন মো. কামরুজ্জামান রতন, আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. মহিউদ্দিন। দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও নির্বাচনী দ্বন্দ্ব থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সহিংসতার বিস্তার যেন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের এক কর্মীকে বিএনপি প্রার্থীর লোকজনের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জে হামলায় স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রায় ২৮ জন সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের দুজনসমর্থক আহত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করাহয়েছে। ঝিনাইদহ-৩ আসনের মহেশপুর উপজেলা শহরে অবস্থিত প্রেস ক্লাবেওবিএনপি কর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। মেহেরপুরের গাংনীতেও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর নেতা-কর্মীরা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীদেরহামলার শিকার হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখমজিবুর রহমান ইকবাল এবং পরাজিত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুলহুদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহতহয়েছেন। আবার যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীদের ছুরিকাঘাতে এক বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিজয়ের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়-বাসাবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সর্বত্র একই চিত্র—অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, আহত ও ভাঙচুর। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতি কি প্রতিশোধের চক্রেই আবর্তিত হবে?
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এখন স্পষ্টতই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিল ঘিরে কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ সময় একজনের মাথায় আঘাত করলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নড়াইল-২ আসনে গাবতলা এলাকায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারীসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় সদরের গাবতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপক্ষের সমর্থকরা এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি কর্মী দুলাল মিয়ার ১২ বছর বয়সী ছেলে ইমনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীর বিরুদ্ধে। দুলাল মিয়ার দাবি, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলেকে সুপারি চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়, এতে তার মৃত্যু হয়। পৃথক ঘটনায় বিএনপির আরও তিন কর্মী আহত হয়েছেন। বাগেরহাটে ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালায়। এর জেরে শুক্রবার সকালে তার বাড়িসহ ৭–৮ বিএনপিকর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হয়। বিএনপি অভিযোগ করেছে, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে। মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিজয়ী প্রার্থী মো. আব্দুল আলীমঅভিযোগ করেছেন, বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা তার নেতাকর্মীদেরওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দিয়েছে। আলমডাঙ্গায় নির্বাচনের ফল ঘোষণারপর প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীদের ওপর বিএনপির চারটি পৃথক হামলায় ১০ জনআহত হয়েছেন। জগন্নাথপুর, রায়লক্ষ্মীপুর, জামজামি ও ভাংবাড়ীয়া গ্রামেআহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এর মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায়রাজশাহী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাজাপুরের মঠবাড়িইউনিয়নের উত্তর সাউথপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে মুহাম্মদ শাহাদাতহোসেনের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তিনি ওইঘটনায় সরাসরি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। আটঘরিয়ার শ্রীকান্তপুরে ধানের শীষ প্রতীকের ভোটে জয়ের পরপ্রতিপক্ষ প্রার্থীর নেতাকর্মীরা অভিযোগমতো আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়ি ওস্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনেস্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের সমর্থকদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরএবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভকে সরাসরি হামলার অভিযোগবিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবারদুপুর পর্যন্ত একরামপুর, নূরবাগ ও মুছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়কর্মী-সমর্থকরা মারধরের শিকার হয়েছেন এবং রিকশা গ্যারেজ ভাঙচুর হয়েছে।কোথাও বিএনপি, কোথাও স্বেচ্ছাসেবকদল, কোথাও যুবদল, কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থী বা অন্য দল—সব পক্ষ থেকেই হামলার ও ভাংচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও শক্তিপ্রদর্শনের রূপ নিচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ পরিণত হচ্ছে সবচেয়ে অসহায় ভুক্তভোগীতে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পর যে সহনশীলতা ও সংযম প্রত্যাশিত ছিল, বাস্তবে তার জায়গা দখল করছে অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা ও সহিংসতার বিপজ্জনক সংস্কৃতি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের পর ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, পঞ্চগড়-১ সহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ওপর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। তিনি ৩০ এর অধিক যায়গায় হামলা ও পুরোনো ফ্যাসিবাদী প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি কি এখনো পুরোনো কায়দায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় কি না সেটা বিএনপিকে স্পষ্ট করতে হবে।’ দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও সতর্ক করেছেন, সারা দেশে এনসিপি ও ১১-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকি চলছে। তাদের বাড়িঘর এবং পরিবার হুমকির সম্মুখীন। বিজয়ী দল যেন নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে কলঙ্কিত না হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরেই পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান নিজে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামীলীগের উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেন। এই ঘটনা এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এমন কর্মকাণ্ডরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এক ধরনের শক্তি প্রদর্শন এবং ক্ষমতারশূন্যস্থান দখলের চিত্রকে সামনে নিয়ে আসে। তালা খোলার এই ঘটনাসামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা সরাসরি উত্তেজনা তৈরি করেছে। ভিডিওতে বিভিন্ন মামলার আসামী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককামরুজ্জামান বুলেট, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন এবং আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সরাসরি উপস্থিতি দেখা যায়। যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজনের পথ প্রশস্ত করতেপারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে— যদি এই ধরনের পদক্ষেপ unchecked থাকে, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা কতটা রক্ষা পাবে, এবংরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি আবার ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার রূপ নেবে কি না।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির কর্মকাণ্ড যেন এক ভয়ঙ্করফ্যাসিবাদী পথের প্রাথমিক ছাপ দেখা যাচ্ছে। যা অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অনুসরণের সময় দেশের জন্য কতটা ভয়ংকর হয়েছিল, তা স্মরণ করিয়েদিচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সহিংসতা, ভাঙচুর, আগুন, হামলা ওহত্যা আরও ভয়াবহভাবে বেড়ে যাবে। শুধু তাই নয়, গুম-খুন, রাজনৈতিকনিপীড়ন ও নাগরিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ যেমন অতীতে দেখা গেছে তাপুনরায় চালু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মানুষের নিরাপত্তাএভাবে এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক লুপে আটকে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখিহতে পারে।
নির্বাচনের ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছিল মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক)। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতা, নিহত ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১–১০ জানুয়ারি ১০ দিনে ৮টি সহিংস ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ১১–২০ জানুয়ারি ১৮টি ঘটনায় ২ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হন। নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর ২১–৩১ জানুয়ারি মাত্র ১১ দিনে সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ হয়ে উঠে; ৪৯টি ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতার ভয়াবহতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা যেন এক ভয়ঙ্কর, চিরায়ত আতঙ্কেরচিত্র। মানুষ শুধু ভোট দিয়েছে তার কারণে তাদের রক্তাক্ত করা হয়, হাত-পাভেঙ্গে দেওয়া হয়, বাড়ি-দোকান ভাঙচুর করা হয়, লুটপাট চালানো হয়।আগুনে ধ্বংস করা হয় স্বপ্ন ও জীবনের নিরাপত্তা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, জীবন্তমানুষকে ধরে ধরে হত্যা করা হয়। এই এক অকল্পনীয় নৃশংসতা। গণতন্ত্রেরনামে ভোটের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে যখন এইভাবে ধ্বংস করাহয়, তখন শুধু শরীর নয়, মানুষের আশা, বিশ্বাস এবং দেশের ভবিষ্যতওঝাঁপিয়ে পড়ে অন্ধকারে। এরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি কোনো দেশের জন্যগ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি প্রতিটি মানুষকে শিহরিত করে, হৃদয় কাঁপায়এবং সমাজের ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিকে নস্যাৎ করে।
এই দেশের মানুষ গভীর আশায় বুক ভরে একটি নির্বাচন পেয়েছে। নির্বাচনীরাজনৈতিক বিবাদ হোক সংলাপের মাধ্যমে, শোষণ, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডেরমাধ্যমে নয়। জাতি চায়- গণতন্ত্র অর্থপূর্ণভাবে কাজ করুক, যেখানে মতেরস্বাধীনতা, ভোটের মর্যাদা এবং আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। জাতিহিসেবে আমরা চাই, নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে শত্রু নয়, প্রতিযোগি হিসেবে দেখুন।আর পার্থক্য থাকলেও সেই পার্থক্য সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশের সুযোগথাকুক। এমন ভয়, রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও ধ্বংসযজ্ঞের সংস্কৃতিকে শেষ করা হোক। এদেশের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদভাবে বাস করতে পারে, ভোট দিতে পারেএবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে।
লেখকঃ কলাম লেখক ও এক্টিভিস্ট।