সর্বশেষ
সরকার গঠনের প্রাক্কালে সৌজন্য সাক্ষাৎ: তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান-এর বৈঠক, রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা নিরঙ্কুশ বিজয়কে গণতন্ত্রের বিজয় বলেছে বিএনপি ২৯৭ আসনের ফল: বিএনপি ২১০, জামায়াত ৬৭ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় ভোট প্রদান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় ভোট প্রদান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকায় ভোট প্রদান সিলেট-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের ভোট প্রদান সিলেট-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের ভোট প্রদান ১৭ বছর পর ভোট দেব, ফিলিংসই আলাদা”—ঢাকা-৯ আসনে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন

https://dailybangladeshview.news/

1070

national

প্রকাশিত

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:৫২

আপডেট

১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০০:০২

সারাদেশ

হার নয়, সম্ভাবনার জয়: বড়লেখা-জুড়ীতে জামায়াতের ভোটবৃদ্ধিতে নতুন স্বপ্ন

নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:৫২

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে আনুষ্ঠানিক ফলাফলে জয় আসেনি জামায়াতে ইসলামীর ঘরে। তবু পরাজয়ের পরও যেন এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে দলটির প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি বুকে নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নেমেছিল। সেই বাস্তবতায় অতীতের নির্বাচন থেকে এ আসনে প্রায় ৫০ হাজার ভোট বৃদ্ধি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়এটি তাদের জন্য মনোবলের পুনর্জাগরণ, সাংগঠনিক শক্তির নতুন বার্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

ভোটের সমীকরণে এই উত্থান প্রমাণ করেছে, তৃণমূলের দীর্ঘ পরিশ্রম ও সাংগঠনিক উপস্থিতি নিঃশব্দে ফল দিচ্ছে। জয় না এলেও তারা দেখেছে সমর্থনের বিস্তার; পরাজয়ের কাগুজে হিসাবের আড়ালে লুকিয়ে আছে আস্থার বৃদ্ধি।

তাই ফলাফলের দিনটি তাদের জন্য কেবল হার-জিতের অঙ্ক নয়, বরং একটি পথচলার মাইলফলক। বিজয়ী না হয়েও তারা যেন অনুভব করছেন বিজয়ের স্বাদকারণ সংখ্যার এই উল্লম্ফন তাদের কাছে আগামীর সম্ভাবনার আলো জ্বেলে দিয়েছে।

এই অর্জনের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বড়লেখা পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম যেন রূপ নেয় এক ভিন্ন আবহে। নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশকে ঘিরে সেখানে জমে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দলের বিভিন্ন ইউনিট থেকে নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন; কারও চোখে ক্লান্তির ছাপ নেই, বরং আছে প্রত্যয়ের দীপ্তি। মিলনায়তনে মুখরিত ছিল স্লোগান আর করতালির ধ্বনি। হতাশার বদলে ছিল আশাবাদের আলো। কর্মীদের মুখে মুখে ঘুরেছে ভোট বৃদ্ধির গল্প, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বপ্ন। সমাবেশটি যেন হয়ে উঠেছিল আত্মবিশ্বাসের পুনর্গঠনএকটি বার্তা যে, পথচলা থেমে নেই; বরং নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে চলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ নির্বাচনে যে ভালোবাসা ও আস্থা দেখিয়েছেন, সেটিই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ভালোবাসা ধরে রাখতে হলে এখনই সংগঠিতভাবে মাঠে কাজ শুরু করতে হবে।

তিনি জানান, ফল ঘোষণার পরদিন থেকেই তিনি নিজে মাঠে নেমেছেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানানঘরে বসে থাকার সময় নয়; ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে, মানুষের খোঁজখবর নিতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। “আপনারা সবার কাছে আমার সালাম পৌঁছে দিন। আমি পর্যায়ক্রমে সবার সঙ্গে দেখা করব,”—যোগ করেন তিনি।

আশাবাদী কণ্ঠে তিনি বলেন, মানুষের এই ভালোবাসা ও সমর্থনই আগামী দিনের প্রেরণা। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জয় তাদেরই হবেএ বিশ্বাস তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ে দল যে সাড়া পেয়েছে, তা নিছক একটি ফলাফল নয়এটি একটি রাজনৈতিক মাইলফলক। তাঁর ভাষায়, সারা দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন অর্জন করা মানে জনগণের এক বিশাল অংশের আস্থা লাভ করা।

তিনি উল্লেখ করেন, এই সমর্থন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। তাই আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে কোনো সরকারই তাদের উপেক্ষা করে ভাবতে পারবে নাএমন আত্মবিশ্বাসী প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আশাবাদ ও দৃঢ়তাজনসমর্থনের এই ভিত্তিকে শক্ত করে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা।