এমপির দরকার নেই; আমরা মন্ত্রী চাই’—এই স্লোগানের আবেগী ঢেউয়ে ভর করেই হবিগঞ্জ-১ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রার্থী, অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া। প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোটে জয় পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে— তিনি কি হচ্ছেন নতুন সরকারের সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট।
নির্বাচনের শেষ দিনের প্রচারণা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জি কে গউছ জানান, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন—
“রেজাকে আমাদের প্রয়োজন। দলের প্রতিটি কর্মী যেন তার পক্ষে কাজ করে।”
এই বক্তব্যের পর থেকেই রেজা কিবরিয়ার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
এর আগে বিএনপিতে যোগদানের দিন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রেজা কিবরিয়ার যোগদান শুধু একটি নির্বাচনী এলাকার জন্য নয়, বরং সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি তার মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে দলের কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দলীয় নেতাদের ধারাবাহিক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে, দলের উচ্চপর্যায়ে তাকে বড় দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। মাঠপর্যায়ের সমর্থকদের কণ্ঠেও শোনা গেছে একই সুর—
‘এমপি চাই না, মন্ত্রী চাই’,
‘এমপির দরকার নেই; আমরা মন্ত্রী চাই।’
নির্বাচনী মাঠের এই স্লোগান এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।
দলীয় সূত্র জানায়, অর্থনীতি বিষয়ে রেজা কিবরিয়ার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণে দক্ষতাকে সামনে রেখেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এ কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি পাপুয়া নিউগিনি ও কম্বোডিয়া সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নীতি সংস্কারে তার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল।
রাজনীতিতে তিনি আগে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরে গণঅধিকার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান এবং এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বৈদেশিক ঋণের চাপ, মুদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভ সংকট ও রাজস্ব ঘাটতির মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে রেজা কিবরিয়ার নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন,
“আমি নিজেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু যখন অনুমান করি রেজা কিবরিয়ার অর্থমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখনই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে তার জয়ের জন্য কাজ করেছি। আশা করি দলের নীতিনির্ধারক তারেক রহমান তার যোগ্যতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন।